টানা 11 মাস মহাশূন্যে, 5000 পাক পৃথিবীকে নাসার নভশ্চর ক্রিস্টিনা এক বিস্ময় কন্যা…

রেকর্ড তৈরি করা মানে এক অন্য রকম আনন্দ এবং তার থেকেও বেশি আনন্দ হয় যখন রেকর্ড ভেঙে আরেক নতুন রেকর্ড করা হয়। তবে এবার মহাকাশে সময় কাটিয়ে এই নতুন রেকর্ড করলেন মগ্ন মহিলা নভোচররা। আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে কেউ কাটাচ্ছেন 289 দিন আবার কেউ কাটাচ্ছেন 328 দিন। গতবছর অর্থাৎ 2019 সালে সবথেকে বেশি সময় ধরে মহাকাশে কাটিয়ে ফেলার রেকর্ড গড়েছিলেন মার্কিন নভোচর পেগি হুইটসনের।

তিনি মহাকাশে মোট 289 দিন কাটিয়ে ফেলেছিলেন। এবং এর থেকেও বেশি দিন মহাকাশে কাটিয়ে ফেলে নয়া রেকর্ড গড়লেন ক্রিস্টিনা কোচ। বছরের বেশির ভাগ সময় মহাকাশে কাটিয়ে ফেললেন তিনি। তিনি 328 দিন মহাকাশে কাটিয়েছেন। রাশিয়ার পাঠানোর সয়ুজ ক্যাপসুলে কাজাখাস্তানের মাটি ছুঁয়ে আবেগে তার চোখে জল চলে এলো। এই বিষয়ে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, ‘আমি বিস্মিত, আনন্দিত।’
হিসেব করে দেখা গিয়েছে ক্রিস্টিনা যে সময় ধরে মহাকাশে ভেসে ছিলেন তার মধ্যে 5248 বার পৃথিবী তার নিজেকে প্রদক্ষিণ এবং পৃথিবী থেকে চাঁদে মোট 251 বার প্রদক্ষিণ হয়ে যেত।

সুতরাং এই হিসেব বলে দিচ্ছে এই কাজ কতটা কঠিন। ক্রিস্টিনার এই অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন,” আমি ছোটবেলা থেকে যে আকাশ দেখে এসেছি তার উপর ভিত্তি করে অনেক স্বপ্ন তৈরি হয়েছিল। আর এখন আমার সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। আমি পূর্বসূরীদের দেখানো পথ ধরেই হেঁটেছি।” শুধুমাত্র মহাকাশচারী হিসেবেই নয় ISS এর বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ তাকে করতে হয়েছে। খারাপ হয়ে যাওয়া পাওয়ার কন্ট্রোল ইউনিট তিনি সেরেছিলেন। এর জন্য তাকে 7 ঘণ্টা মহাকাশ স্টেশনের বাইরে থাকতে হয়েছে।

সেই সময় তার সঙ্গী হিসেবে একজন মহিলা ছিলেন যার নাম জেসিকা মেয়ার। এই অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, ” আমরা যখন খবর পেলাম যে আমাদের স্টেশনের বাইরে গিয়ে কাজ করতে হবে তখন, কেমন যেন একটা ভয় ভয় করছিল। আমি আর জেসীকা তখন একে অপরের দিকে তাকাচ্ছিলাম।

সেই সময় আমাদের এক উন্নয়নের অভিজ্ঞতা হয়েছে, তা আমরা কোনদিন ভুলবো না।” কিন্তু ক্রিস্টিনা কোচ মার্কিন নভোচর স্কট কেলির রেকর্ড ভাঙতে পারেননি। 2015-16 কেলি মোট 340 দিন মহাকাশে কাটিয়ে ছিলেন। অর্থাৎ মাত্র 15 দিন তিনি পৃথিবীতে ছিলেন এক বছরের মধ্যে। ক্রিস্টিনা, কেলির থেকে মাত্র 12 দিন কম থেকেছে মহাকাশে।

সয়ুজে চেপে তিনি যখন কাজাখস্তানের ভূমি স্পর্শ করেন তখন তিনি বলেন, ” এই মুহূর্তে আমি সবথেকে সুখী মানুষ এবং আমার সমস্ত স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। এবং আমি ভবিষ্যত প্রজন্মকেও অনুপ্রাণিত করতে চাই।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *