কেন মেয়ের উপর প্রথম করোনা ভ্যা’কসিন প্র’য়োগ, জানালেন পুতিন

সম্প্রতি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়া ইনস্টিটিউটের গবেষকদের প্রচেষ্টায় তৈরি “SPUTNIK-V” ভ্যাকসি’নটিকে চূড়ান্ত পর্যায়ে সফল বলে ঘোষণা করেছেন। ভ্যাক’সিনের কার্যকারিতা সম্পর্কে আশ্বাস প্রদান করতে তিনি জানিয়েছেন, তার নিজের মেয়ের শরীরে এই ভ্যাক’সিন প্র’য়োগ করা হয়েছে। এতে তার শরীরে অল্প জ্ব’রের লক্ষণ দেখা দিলেও, সুস্থ রয়েছেন পুতিন কন্যা।

তবে ভ্যাক’সিনের কার্যকারিতা সম্ব’ন্ধে নিশ্চিত হতে এভাবে পরিবারের সদস্যের উপর পরীক্ষা চালানোর প্র’ক্রিয়া বহু পুরনো। বিশ্বে “ভেরিওলেসন” প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার মুহূর্ত থেকেই বিভিন্ন বিজ্ঞানী তাদের আবিষ্কৃত ভ্যাক’সিন প্রথমে পরিবারের সদস্যের উপরেই প্রয়োগ করেছেন। এতে, কখনো সফলতা মিলেছে তো কখনো বিজ্ঞানীরা চিরকালের জন্য হারিয়েছেন প্রিয়জনদের।

উল্লেখ্য, ১৭১৬ সালে গুটিবস’ন্তের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আ’ক্রান্ত রোগীর দেহ থেকে পুঁ’জ সংগ্রহ করে সেই পুঁ’জ নিজের বান্ধবী এবং তার সন্তানদের শরীরে প্রয়োগ করেছিলেন তৎকালীন ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত লর্ড মন্টেগুর স্ত্রী মেরি মন্টেগু।

আশ্চ’র্যজন’কভাবে তারা সুস্থ হয়েও উঠেছিলেন। এখানেই শেষ নয়, আমেরিকার পেনসিল’ভেনিয়ার ডাক্তার তথা গবেষক বেঞ্জামিন ফ্রাঙ্কলিন ১৭৩৬ সালে একই পদ্ধতি প্রয়োগ করেন নিজের চার বছরের শিশু সন্তানের দেহে।

তবে তাতে সাফল্য মে’লেনি, মা’রা যায় ছোট্ট শিশুটি। তবে এই প্রক্রি’য়াতেই কিন্তু গুটি বসন্তের ভ্যাক’সিনেশন আবিষ্কার করেছিলেন বিখ্যাত বিজ্ঞানী এডওয়ার্ড জেনার। গুটিবস’ন্তে আ’ক্রান্ত এক গোয়া’লিনীর ফো’ড়া থেকে পুঁ’জ নিয়ে বাগানের মালির ছয় বছরের বালকের দেহে প্রয়ো’গ করেন তিনি।

এরপর তাকে সরাসরি গুটিবস’ন্তের ভাই’রাসের সংস্পর্শে আনা হলো। গবেষণায় সাফল্য পেলেন জেনার। ওই বালকের আর গুটিবস’ন্ত হয়নি। এভাবেই গুটি বস’ন্তের “ভ্যারিওলেশন” প্রক্রি’য়া সম্ব’ন্ধিত গবেষণা সফল হয়, গুটি বস’ন্তের টিকা আবি’ষ্কর্তা জেনার হয়ে উঠলেন বিখ্যাত ভ্যাক’সিন আবিষ্কারী বিজ্ঞানী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *